রাজা এক লোকের বিচার করে রায় দিলেন শাস্তি। শাস্তি হচ্ছে হয় দশটা বেত খেতে হবে অথবা এক কেজি পেঁয়াজ খেতে হবে।লোকটা ভাবলো- সবার সামনে বেত খাবো? বড় অসম্মানের কথা। তারচেয়ে ভালো, চুপচাপ পেঁয়াজটাই খেয়ে নিই।
রাজাকে বললো- হুজুর, আমি পেঁয়াজটাই খাবো। রাজার আদেশে লোকটার সামনে এক কেজি পেঁয়াজ এনে রাখা হলো। লোকটা গপাগপ ২/৩ টা পেঁয়াজ খাওয়ার পর হাউমাউ করে কান্না শুরু করলো। কী ঝাঁঝ এই পেঁয়াজ! এক কেজি কিভাবে খাবে? ২/৩টা খেতেই তো জান শেষ।
মনে মনে ভাবলো, যাক কষ্ট করে দশটা বেত-ই খেয়ে নিই। দ্রুত শেষ হয়ে যাবে কাজটা। তাই রাজার দিকে ফিরে বললো- হুজুর, মাফ করবেন, আমি পেঁয়াজ খেতে পারবো না। আমাকে দশটা বেত-ই দিন।
দয়ালু রাজা। লোকটার অবস্থা দেখে মায়া হলো। জল্লাদকে ডেকে বললো, নাও, ওকে দশ বেত দিয়ে দাও। জল্লাদ চামড়ার চাবুক এনে লোকটার পীঠে সপাং করে দু' ঘা লাগাতেই লোকটা এমন জোরে বাবাগাে-মাগো বলে চিৎকার করে উঠলো যে বলার নয়!
চিৎকার করতে করতেই রাজার দিকে তাকিয়ে বললো- হুজুর মা-বাপ। দয়া করুন। দয়া করুন। বেত খেতে পারবো না। দয়া করে পেঁয়াজ দিন। পেঁয়াজ খেয়েই বিদায় হই।
রাজা প্রকৃতই দয়ালু। সুতরাং লোকটার কথা কবুল করে বেত বাদ দিয়ে পেঁয়াজ খাওয়ার অনুমতি দিলেন। লোকটা পড়িমরি করে আবারও ৪/৫টা পেঁয়াজ খেয়ে ফেললো। আর আবারও মইরা গেলাম, চইল্যা গেলাম, শেষ হয়ে গলাম করে জোরে জোরে চিৎকার করতে লাগলো। চোখ-নাক-মুখ থেকে লালা ঝরছে।
রাজার দিকে তাকিয়ে কাতর স্বরে বললেন- দয়ালু রাজা মশাই, হুজুর, দয়া করে আমাকে বেত দিন... দয়ালু রাজা আবারও দয়া প্রদর্শণ করলেন। জল্লাদের দিকে তাকিয়ে ঈশারা করলেন। জল্লাদ এগিয়ে গিয়ে আবারও দু'ঘা লাগাতেই লোকটা আকাশ-পাতাল কাঁপিয়ে চিৎকার করে উঠে রাজার দিকে দয়া ভিক্ষা চাইলেন যেন তাকে পেঁয়াজ-ই খেতে দেয়া হয়.....
আর এভাবে শেষ পর্য়ন্ত দেখা গেলো লোকটা দশটা বেতও খেয়েছে আবার এক কেজি পেঁয়াজও শেষ করেছে। সিদ্ধান্তহীনতার এই হলো পরিণাম।

বাস্তব জীবনেও অনেকে এরকম করেন। কোনো কাজে লেগে থাকতে পারেন না। দু'দিন এই কাজ করেন তো পরের দু'দিন অন্য কাজ নিয়ে ভাবেন। দ্রুত স্যুইচ করতে থাকেন। ফলে কোনো কাজ-ই হয় না।